পরার্থ কি ?
মানুষের ব্যাক্তিগত স্বার্থ থাকলে স্বার্থ সিদ্ধি হয় না। যখন মনের মধ্যে সকলের হিতের ভাব জাগ্রত হয়, তখন ব্যাক্তিগত স্বার্থও সিদ্ধি হয়। সাধন ভজনা সকলের হিতের জন্য করতে হবে, একথা ঠিক নয়। নিজের স্বার্থত্যাগের জন্য সাধন ভজন করতে হবে। যখনই নিজের স্বার্থত্যাগ হবে, তখনই অন্যের হিতের জন্য চিন্তা আসবে। যখন কোন দুঃখি ব্যাক্তিকে দেখা যাবে, তখন যদি মনের মধ্যে নিজের দুঃখ মনে হয়। তখন মনে করতে হবে, দুঃখি ব্যাক্তির দুঃখ দূর করার কোন বস্তু আমার মধ্যে আছে। তখন তাকে সেই বস্তু দিলে তাতেই ভগবানের সেবা হয়।
ভগবানের সাধন ভজন করতে হলে ,প্রথম নিজের স্বার্থভাব বর্জন করে সম্পূর্ন ভাবে ভগবানের শক্তির উপর নির্ভর থাকতে হয়।
কিঞ্চিত পরিমান নিজের শক্তির উপর নির্ভর থাকলে, ভগবান ভক্তকে কৃপা করেন না।
যেমন কৌরব সভায় যখন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরন করা হচ্ছিল, তখন তিনি হাত দিয়ে, দাঁত দিয়ে কাপড় ধরে রেখে ভগবানকে ডাকছিলেন। নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করে ভগবানকে ডাকতে থাকায়, ভগবান আসতে দেরি করেছেন। কিন্তু যখন দ্রৌপদী সর্বপ্রকার চেষ্টা ছেড়ে একমাত্র ভগবানের ওপরেই নির্ভরশীল হলেন, তখন দুঃশাসন বস্ত্র টানতে টানতে পরিশ্রান্ত হয়ে গেলেন, দ্রৌপদীর কোনো অঙ্গই উন্মোচন হল না।
ভক্ত যা কিছু করেন , সেগুলি ভগবানেরই মনে করে, ভগবানের শক্তি মেনে নিয়ে, ভগবানের জন্যই করে থাকেন। নিজের জন্য কিছুই করেন না।
দাসের দাস
দেবর্সমান নিত্যানন্দ দাস।


0 Comments
ধন্যবাদ