লক্ষী পুজো করবেন




কিভাবে লক্ষী পুজো করবেন?

সবার প্রথমে মাথায় একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে নারায়ণকে স্মরণ
করা বাঞ্ছনীয়। তাতে শরীর শুদ্ধ হবে। প্রয়োজনে শুদ্ধিমন্ত্র উচ্চারন করুন। এরপর জল দিতে হয় সূর্যকে। কেন না, তিনিই সকল প্রাণশক্তির উৎস। এমনকী, সূর্যালোক ছাড়া শস্যও উৎপন্ন হবে না! তাই আসনের রাখতে হবে একটি তামার পাত্র। সেই পাত্রে জল দিতে হবে সূর্যকে স্মরণ করে। এর পর সামান্য একটু জল ছিটিয়ে শুদ্ধ করে নিতে হবে পূজার সামগ্রী।
.
এবার লক্ষ্মীর সামনে একটু ধান আর মাটি ছড়িয়ে সেখানে ঘট স্থাপন করতে হবে। ঘটের গায়ে তেল-সিঁদুর দিয়ে আঁকতে হবে স্বস্তিকচিহ্ন। ঘটে স্থাপন করতে হবে বিজোড় সংখ্যার আমপাতার গুচ্ছ। তার উপরে একটি ফুল-সহ রাখতে হবে একটি কলা বা হরীতকী। এবার দেবীকে প্রণাম করতে হবে এই ধ্যানমন্ত্রে-
.
‘’ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-
সৌম্যয়োঃ/পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ
শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্/গৌরবর্ণাং
সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্/রৌক্মপদ্ম-
ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।‘’
.
মানে,
দক্ষিণহস্তে পাশ, অক্ষমালা এবং
বামহস্তে পদ্ম ও অঙ্কুশধারিণী, পদ্মাসনে
উপবিষ্টা, শ্রীরূপা, ত্রিলোকমাতা,
গৌরবর্ণা, সুন্দরী, সর্বালঙ্কারভূষিতা,
ব্যগ্রহস্তে স্বর্ণপদ্মধারিণী এবং
দক্ষিণহস্তে বরদাত্রী দেবীকে ধ্যান করি।
. তবে যাঁরা সংস্কৃত মন্ত্র জানেন না, তাঁরা মন্ত্র ছাড়াই পূজা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে হাত জোড় করে, চোখ বন্ধ করে
কিছুক্ষণ চিন্তা করবেন মা লক্ষ্মীর কথা। এর পর দেবীকে গৃহে আবাহনের পালা। বলতে হবে,
.
‘’ওঁ লক্ষ্মীদেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ
ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ
সন্নিরুদ্ধস্য অত্রাধিষ্ঠান কুরু মম পূজান
গৃহাণ।‘’
. নইলে হাত জোড় করে বলা- এসো মা লক্ষ্মী, আমার গৃহে অধিষ্ঠান করো, যতক্ষণ তোমার পূজা সমাপন না হয়, স্থির হয়ে থাকো আমার গৃহে। এর পর মনে মনে ভাবতেহবে, স্বয়ং দেবী আপনার দেওয়া নৈবেদ্য গ্রহণ করছেন। যাকে কি না বলা হয় মানসপূজা।
.
অতঃপর পূজার সামগ্রী একে একে নিবেদন করতে হবে দেবীকে। তিনি গৃহে এসেছেন, তাই একটু জল দিতে হবে ঘটের পাশে আঁকা পদচিহ্নের উপরে। মানে, আপনি দেবীর পা ধুইয়ে দিলেন। এর পর একটু দূর্বা ও আতপ চা দিতে হবে ঘটে, দিতে হবে একটি ফুল। এবং, দেবীর প্রতিমায় বা সরায় বা ঝাঁপিতে দিতে হবে চন্দনের ফোঁটা। তার পর প্রথমে
  ধূপ ও পরে দীপ নিবেদন। নৈবেদ্য নিবেদন শেষ করে পুষ্পাঞ্জলি।
.
‘’এষ সচন্দনপুষ্পাঞ্জলি ওঁ শ্রীং লক্ষ্মীদেব্যৈ
নমঃ’’ বলে তিন বার পুষ্পাঞ্জলি দিতে
হবে। পুষ্পাঞ্জলি শেষ হলে নারায়ণের
উদ্দেশে দিতে হবে একটি ফুল ও দুটি
তুলসীপাতা। ইন্দ্র আর কুবেরের উদ্দেশে
ঘটে দিতে হবে দুটি ফুল। একটি ফুল দিতে
হবে মায়ের বাহন পেঁচাটিকেও। সবার
শেষে দেবীকে প্রণাম করতে হবে এই
মন্ত্রে- ‘’ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে
পদ্মালয়ে শুভে/সর্বতঃ পাহি মাং দেবি
মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।‘’ তার পর পাঠ করতে
হবে লক্ষ্মীর পাঁচালী।
.
কিন্তু, কয়েকটি কথা খেয়াল না রাখলেই নয়! লক্ষ্মীপূজায় কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতে নেই! উচ্চকিত শব্দে বিরক্ত হন দেবী। দিতে নেই তুলসীপাতাও। কেন না, তুলসী দেবী লক্ষ্মীর সতীন! আর ব্যবহার করতে নেই লোহার কোনও বাসন। কেন না, লোহা দেওয়া হয় অলক্ষ্মীকে। তাই লোহা দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ভক্তের গৃহ ত্যাগ করেন লক্ষ্মী। মোটের উপর, ভক্তের কাছ থেকে ভক্তি ছাড়া আর কিছুই প্রার্থনা করেন না লক্ষ্মী। তাই একমাত্র তাঁর পূজাই মন্ত্র ছাড়া, শুধু তাঁকে স্মরণ করেই সম্ভব। সেটা
মাথায় রেখেই না হয় আমরা পালন করি এই কোজাগরী পূজা! বাজারে সব কিছুই অগ্নিমূল্য? তাতে কী! দেবী তো ষোড়শোপচারে পূজা চাইছেন না! তাঁর অধিষ্ঠানের জন্য হৃদকমলটি বিকশিত হলেই
তো হল! তাতেই লক্ষ্মী আসবেন ঘরে ঘরে! পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।  ভালো লাগলে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।