!!*হরে কৃষ্ণ*!!
"।পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।"
.*****-****-.-#-.-****-*****.
.
#  শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান এবং আদি পুরুষ। তাঁর সমকক্ষ এবং  তাঁর উর্ধ্বে আর কেউ নেই। তাঁর থেকেই সমস্ত স্থাবরজঙ্গম ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কোনো অবতার নন, তিনি হচ্ছেন স্বয়ং অবতারী। অর্থাৎ ভগবানের সমস্ত অবতার হচ্ছেন তাঁর বিভুতি অংশ প্রকাশ। তিনি হচ্ছেন সমস্ত অবতারের উৎস এবং আদি কারণ। শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ঈশ্বরেরও ঈশ্বর, তাই তাঁকে বলা হয়. পরমেশ্বর।
.
#  শাস্ত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৬ প্রকার অবতারের কথা বলা হয়েছে।  পুরুষাবতার, গুণাবতার, লীলাবতার, শক্ত্যাবেশ অবতার, যুগাবতার এবং মন্বন্তর অবতার। এরা সকলেই হচ্ছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অংশ বা কলা। বিশেষ কোনো কার্য সাধনের উদ্দেশ্যে যুগে যুগে  এই অবতারেরা অবতীর্ণ হন। শ্রীকৃষ্ণের অংশ অবতারেরা প্রতি যুগে যুগে অবতীর্ণ হলেও স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু প্রতি যুগে যুগে আসেন না। তিনি সহস্ত্র চতুর্যুগে মাত্র ১ বার আসেন। অর্থাৎ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর এবং কলি, এই চারটি যুগ ১০০০ বার আবর্তিত হলে যা ৮৬৪ কোটি বছরে হয়, মাত্র ১ বার আসেন। আর শ্রীকৃষ্ণ যখন আসেন, তখন তাঁর ধাম এবং পার্ষদ সহ তিনি অবতীর্ণ হন।
“স্বপার্ষদ স্বীয় ধাম সহ অবতরী।”
.
#  ব্রহ্মাজি ব্রহ্মসংহিতায় বলেছেন,
"ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণ, সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ।
 অনাদিরঃ আদি গোবিন্দ, সর্বকারনঃকারনাম্।।
@ অর্থাৎ, কৃষ্ণই হচ্ছেন পরম ঈশ্বর, যাঁর বিগ্রহ সর্বদা আনন্দদায়ক। তিনি সকল অবতারেরও আদি এবং সকল কারনের পরম কারন।
.
#  " ভক্ত শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে যে দেবতার আরাধনা করেন, সেই দেবতার কাছ থেকে আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু লাভ করেন”
 -গীতা ।
@ অর্থাৎ, দেবতারা যে ফল প্রদান করেন, তা মুলত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের থেকেই আসে।
.
#  একটি সরকার ব্যবস্থায় যেমন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে বিভিন্ন সচিব এবং মন্ত্রীবর্গ রয়েছেন, ঠিক তেমনি দেবদেবীরা হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিনিধি। যেমন কেউ বিদ্যার দেবী, কেউ ধন-সম্পদের দেবী, আগুনের দেবতা অগ্নিদেব, বায়ুর দেবতা পবনদেব, বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রদেব ইত্যাদি। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ষড়ৈশ্বর্যে পুর্ণ। সমস্ত ঐশ্বর্য, সমস্ত বীর্য বা শক্তি, সমস্ত শ্রী বা সৌন্দর্য, সমস্ত জ্ঞান, সমস্ত যশ এবং সমস্ত বৈরাগ্য, এই ৬টি গুণ শ্রীকৃষ্ণের অন্যান্য অবতারদের মধ্যে আংশিক পরিমাণে দেখা গেলেও, একমাত্র শ্রীকৃষ্ণের মধ্যেই এই ৬টি গুণ পুর্ণরুপে দেখা যায়।
.
#  শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন,
"একলা ঈশ্বর কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য।"
@ অর্থাৎ, জীবমাত্রই হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস আর শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন জীবের একমাত্র পরম প্রভু।
.
#  পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কোথায় থাকেন, তাঁর পরম ধামটি কেমন ইত্যকার বিষয়ে বলা যায়, সমগ্র সৃষ্টির ৩ ভাগ হচ্ছে চিন্ময় জগত এবং মাত্র ১ ভাগ হচ্ছে জড় জগত। চিন্ময় জগতের সর্বোচ্চ স্থান হচ্ছে “গোলোক বৃন্দাবন”। আদি চিন্ময় এই পরমধামটি দেখতে সুবিশাল পদ্মফুলের মতো। এটিই হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পরমধাম। গোলোক বৃন্দাবনে ভগবান মুরালীধর, শ্যাম সুন্দর রুপে অবস্থান করেন। বাঁশি বাজিয়ে-গাভী চরিয়ে নানান রকম লীলা-বিলাসের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের সর্বদা আনন্দে মাতিয়ে রাখেন।
.
#  মুলত এটিই হচ্ছে ভগবানের আদিরূপ। এখানে ঋতু মানেই বসন্তকাল। সেখানকার বৃক্ষগুলো হচ্ছে কল্পবৃক্ষ, গাভীগুলো হচ্ছে সুরভী গাভী। সেখানকার ঘর-বাড়ী এবং রাস্তাগুলো চিন্তামণি পাথর দ্বারা নির্মিত। সেখানে সহস্র শত লক্ষ্মীদেবী একনিষ্ঠ প্রেমোময়ী শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করে চলেছেন। সেখানে চলা মানেই নৃত্য এবং কথা মানেই গীত। মুলত গীত থেকেই এই গীতা শব্দটি এসেছে। চিন্ময় জগতের গোলোক বৃন্দাবনের.নিচে রয়েছে যথাক্রমে মথুরাধাম, দ্বারকাধাম, অযোধ্যা ধাম এবং বৈকুণ্ঠধাম। প্রতিটি ধামে ভগবানের.অংশ প্রকাশেরা ভিন্ন ভিন্ন রুপে অবস্থান করেন। মথুরায় বাসুদেব এবং সংকর্ষণ রুপে, দ্বারকায় অনিরুদ্ধ এবং প্রদ্যুম্ন রুপে, অযোধ্যায় শ্রীরামচন্দ্র রুপে, বৈকুন্ঠে শ্রীনারায়ণ রুপে অবস্থান করেন। এই চিন্ময় জগতকে আলোকিত করার জন্য কোনো সুর্য বা নক্ষত্রের প্রয়োজন হয় না। গোলোক বৃন্দাবন থেকে যে ব্রহ্মজ্যোতি নির্গত হয়, তাঁর আলোতেই সমস্ত চিন্ময় জগত আলোকিত হয়। পরম আনন্দময় সেই জগত। কোনো জন্ম-মৃত্যু, জড়া-ব্যাধি, রোগ-শোকের লেশ পর্যন্ত নেই সেখানে। সেটিই হচ্ছে সকল জীবের পরমাগতির স্থান। অর্থাৎ ব্রহ্ম আলয়।
.
#  তাহলে আমি কে, আমরা কি একবার গভীর ভাবে চিন্তা করেছি! একজন মানুষ যখন মারা যায়, তখন বলতে শোনা যায়, লোকটি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। যদিও তার মৃত দেহটি পাশেই পড়ে আছে। তাহলে যিনি চলে গিয়েছেন তিনি কে! হ্যা, এটিই হচ্ছে জানার মুখ্য বিষয়। তার মানে আমি কোনো দেহ নই, আমি হচ্ছি জীবাত্মা। এই জীবাত্মা যতোক্ষণ পর্যন্ত এই জড় দেহটিতে অবস্থান করে, ঠিক ততোক্ষণ পর্যন্তই সেই জড় দেহটি সচল থাকে। অর্থাৎ স্বরুপে আমরা সবাই হচ্ছি চিন্ময় আত্মা। দেহটি কেবলই একটি আবরণ মাত্র।
.
#  এখন কথা হচ্ছে, এই আত্মাই বা কিভাবে সৃষ্টি হলো! আত্মা মুলত দুই প্রকার। জীবাত্মা এবং পরমাত্মা। সুর্যের রশ্মিকণা যেমন সুর্য থেকে উৎপন্ন হয়েছে, ঠিক তেমনি প্রতিটি জীবাত্মাও পরমাত্মা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরমাত্মাকেই আমরা ভগবান বলে জানি।
.
#  এবার আসি আমরা কোথা থেকে এসেছি, সে বিষয়ে। সকল জীবাত্মাই পরমাত্মার অংশ হওয়ার ফলে পুর্ব থেকেই আমরা ভগবত ধামেই ছিলাম। বিভিন্ন জড় জাগতিক কামনা-বাসনা, যৌন আকাংক্ষা ইত্যাদির কারনে আমাদের স্বত্ত্বা কলুষিত হয়ে পরে। মুলত এটাই হচ্ছে আমাদের পতনের মুল কারন। যে পর্যন্ত আমরা নিজেদের স্বত্ত্বাকে পুর্ণরুপে শুদ্ধ করতে না পারবো, পুণরায় আমাদের আসল ঠিকানা ভগবতধামে ফিরে যাওয়া কখনোই সম্ভব হবে না।
.
কৃষ্ণমন্ত্র হৈতে হ’বে সংসার মোচন।
কৃষ্ণনাম হৈতে পা’বে কৃষ্ণের চরণ।।
দরিদ্র অধম যদি লয় কৃষ্ণ নাম।
সর্ব্ব দোষ থাকিলেও যায় কৃষ্ণধাম।।
.
#  তাহলে মৃত্যুর পর আমরা কোথায় ফিরে যাবো, সে চিন্তা আসা স্বাভাবিক। অথবা, এই জড় জগত থেকে উদ্ধারের উপায় কি! পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরম করুণাময়। তিনি যেমন তাঁর অবাধ্য সন্তানদের শাসন করেন, তেমনি আবার ভালোবেসে তাঁর নিজের কাছেও ফিরিয়ে নিয়ে যান।
.
হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা॥
@ অর্থাৎ, বিবাদ ও শঠতায় পরিপূর্ণ এই কলিযুগে মুক্তিলাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে “হরিনাম সংকীর্তন”। এছাড়া আর কোনো গতি নাই, এছাড়া আর কোনো গতি নাই, এছাড়া আর কোনো গতি নাই।’’
.
#  আমাদের এই জড় জগতটি কেমন। শ্রীমদ্ভগবত গীতায় ভগবান বলেছেন, “দুঃখালয়ম অশ্বাশতম্...।” এই জগতটা হচ্ছে দুঃখের আলয়। এখানে কেউ সুখ পাবে না, যারা সুখের পিছনে ছুটছে তারা বার বার ত্রিবিধ ক্লেশের দ্বারা জর্জরিত হচ্ছে। যার ফলে সুখ নামক যে অপ্রাপ্ত বস্তুর সন্ধান করছে, কোনো সময়ই সেই সুখের খোঁজ তারা পায় না। কয়েদীদের যেমন কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়, তেমনি যাদের হৃদয় কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা ইত্যাদির ফলে ভগবত বিমুখ হয়ে পড়েছে, তাদেরকে এই কারাগাররুপী জড় জগতে নিক্ষেপ করা হয়। জন্ম-মৃত্যু, জড়া-ব্যাধি, রোগ-শোক, দুঃখ-কষ্টের কবলে পড়ে এই বদ্ধ জীবেরা আজীবন ধুকে ধুকে কষ্ট পাচ্ছে।
.
কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদি-বহির্মুখ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার-দুঃখ।।
কভু স্বর্গে উঠায়, কভু নরকে ডুবায়।
দন্ডজনে রাজা যেন নদীতে চুবায়।।
.
#  “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র কিভাবে এ জগতে আসলো, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র এ জগতের সম্পদ নয়। এটি হচ্ছে চিন্ময় জগতের সর্বোচ্চ ধাম গোলোক বৃন্দাবন থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কলিযুগে, শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু রুপে এসে কৃপা করে আমাদের এই মহামন্ত্র দান করেছেন। মহাপ্রভু বলেছেন, “এর মুল্য দেওয়ার মতো ক্ষমতা তোমাদের নেই। তাই তোমরা কেবল এই 'মহামন্ত্র' আমার কাছ থেকে ভিক্ষা চেয়ে নিতে পারো।”
.
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
.
#  প্রতিনিয়ত এই “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনের ফলে ধীরে ধীরে আমাদের হৃদয় নির্মল ও শুদ্ধ হবে। এর ফলে অচিরেই আমরা কৃষ্ণপ্রেম লাভ করবো এবং চরমে শ্রীকৃষ্ণের কাছেই ফিরে যাবো। শ্রীমদ্ভাগবতে (৯/৪/৬৮) ভগবান বলেছেন,
"সাধবো হৃদয়ং মহ্যং সাধুনাং হৃদয়ং ত্বহম।
 মদন্যৎ তে ন জানন্তি নাহং তেভ্যো মনাগপি।।
@ অর্থাৎ, ভক্তেরা আমার হৃদয়ে সর্বদাই নিবাস করেন এবং আমিও সর্বক্ষণই তাঁদের হৃদয়ে বিরাজমান থাকি। আমাকে ছাড়া ভক্ত আর কিছুই জানেন না, আর আমিও তাই ভক্তকে কখনও ভুলতে পারি না। আমার শুদ্ধ ভক্তের সংগে আমার যে সম্পর্ক তা প্রগাঢ়.প্রেমময় ও আন্তরিক। পুর্ণজ্ঞানী শুদ্ধ.ভক্তেরা কখনই পারমার্থিক সান্নিধ্য বর্জন করেন না, তাই তারা আমার এতো প্রিয়।
*#*
.
#  পরমকরুণাময় গোলোকপতি, যমুনাতটের, বৃন্দাবনের মধুর মুরলীধারী, সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতী রাধারাণী এবং সকল বৈষ্ণব ভক্ত-পার্ষদদের শ্রীচরণকমলে নিরন্তর প্রার্থনা করি, সকলের জীবন যেনো রাধা কৃষ্ণময়তায় পূর্ণ হয়ে, মঙ্গলময়, কল্যাণময়, ভক্তিময়, সুন্দরময় আর আনন্দময় হয়ে ওঠে সর্বদা।(দেবেন্দ্র)
.
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
 কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
 হরে রাম হরে রাম
 রাম রাম হরে হরে!!"
!!জয় হোক সকল ভক্তদের!!
!!জয় শ্রীকৃষ্ণ!! জয় রাধে!!